কমলেশ পাল এর জন্ম ৫ অক্টোবর ১৯৩৫ সালে, বাইসারি এক সমৃদ্ধ গ্রামে। এক বিত্ত পরিবারের আশ্রয়ে থাকলেও  তারা ছিলেন দারিদ্র। বাবা চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও দরিদ্র সেবার জন্য দারিদ্র বরণ করে নিয়েছিলেন। মা নিজের চেষ্টায় শিক্ষিতা ছিলেন। বই পড়া, নানা রকমের শিল্প সৃজনে তাঁর আগ্রহ ছিল। তারই প্রভাবে কমলেশ অতি অল্প বয়স থেকে কবিতা এবং শিল্প সম্বন্ধে আগ্রহী হয়ে ওঠে। বালককালে নেতাজীর তথাকথিত বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু স্নগবাদের অভিঘাতে জীবনের প্রথম কবিতাটির উদ্ভব। ১৯৪৬-এ বর্ধমানে জন্মধন্য চুরুলিয়ায় চলে আসতে হয় এক পারিবারিক শোকাবহ পরিস্থিতিতে। চুরুলিয়াতেই ১৯৫০ সালে মায়ের এবং ১৯৫১ সালে বাবার মৃত্যু হয়। এর পরে সংসার থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ১৬ বছর বয়স থেকেই নানা ধরনের চাকরি করতে করতে ১৯৫৫ সালে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াতে শ্রমিকের চাকরি। একা একা তার জেগে নানা ভাষার যা-খুশি পড়াশুনা করে গেছেন। রাবীন্দ্রিক কবিতা লিখে গেছেন অত্যন্ত গোপনে। তবে, ১৯৫৪ থেকেই জীবনানন্দ ও প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের কবিতার সংস্পর্শে এসে নির্মিতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে থাকেন। ১৯৬৬ তে বিবাহের পর ১৯৭৬ –এ চাকরিতে উদবৃত্ত ঘোষিত হওয়ায় তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা জাগতে থাকায় তিনি একমাত্র বাঁচার জন্য কবিতাকে আঁকড়ে ধরেন। এবার তিনি সিদ্ধান্ত নেন, রাবীন্দ্রীক কবিতা নয়, নিজের ভাষায় কবিতা লিখবেন এবং তা ছন্দে। এ সময়টাতে শ্যামনগরে ছিলেন। ওখানকার বিশিষ্ট কবি দ্বিজেন আচার্য এবং ‘তৃণাঙ্কুর’ কাগজের সম্পাদক গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী তাকে প্রভূত উৎসাহ যোগান। অল্পদিনেই কমলেশের কবিত্ব শক্তি অনেককেই চমকিত করে। তাঁর ছন্দজ্ঞান বাংলার শ্রেষ্ঠ ছান্দাসিক কবিদের সমতুল্য – এমন কথাও কেউ কেউ বলতে থাকেন। কবি একগুঁয়েভাবে, প্রাতিষ্ঠানিক পত্রিকায় কবিতা ছাপাবেন না, ঠিক করেন। এবং এটাও মনস্থ করেন যে, আমন্ত্রণ ছাড়া লিটল ম্যাগাজিনেও কবিতা দেবেন না; তাঁর কাজ শুধুমাত্র শিল্পসম্মত শুদ্ধ কবিতা সৃজন করে যাওয়া।

এরপর কমলেশ মধ্যমগ্রাম চলে আসেন, শুরু হল নানান ম্যাগাজিন ও সাংস্কৃতিক সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনার । মধ্যমগ্রামের ছাত্র দিলীপ কুমার দত্ত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ সেই মুখ, সেই আর্তনাদ’ ছাপালো ১৯৮৫ সালে। এর পরে তাঁর কবিতাপ্রেমীরাই অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলি ছাপেন। কমলেশ পালের এ পর্যন্ত প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলি—১) সেই মুখ সেই আর্তনাদ ( ১৯৮৫) ২) অবিশ্রাম রক্তের প্রপাত- (১৯৮৮) ৩) ডানায় আকাশ—( ১৯৯৬) 8) নির্বাচিত কবিতা সমগ্র ( ১৯৯৮) ৫) পাঁজর পুরাণ – (২০০৫) ৬) হাহা হাওয়া কারুবাসনার ( ২০০৯) ৭) রা – – (২০১৬) ৮) অন্ধের ওয়াকিং স্টিক – – (২০১৬) ৯) কবিতা সংগ্রহ – (২০১৯)
এছাড়া একখানি গদ্যগ্রন্থ ‘ নারীঃ অবরোধ এবং আকাশ’ ২০১৩

কবি ৮৩ অতিক্রান্ত, তবু কবিতা এবং গদ্য লিখে চলেছেন।